এখন বাড়িতে আছি
অবসাদের বিড়ি ফুঁকচি
ট্রেন লাইনে সারাদিন ঝিঝি ডাকে
আমি শুনি,
কলকাতা বহুদূরে,
আরো দূরে সরে গিয়েছে, যে দিন শুনলাম
কাজ খেয়েছে, করোনায়,
সংসারের চিন্তা চেপেছে মাথায় ষোলোআনাই।
এখন ট্রেন পথ দেখি, আমার মত অনেকেই দেখে,
নিজেদের অধিকার নিয়ে বাংলা মদ খাই...
কত চিন্তা মাথায় আসে,
ভাবি, কেমন আছে তারা,
যাদের আমার মতন আর কাজ নাই....?-
---হ্যালো....
---হ্যাঁ ,কে বলছেন.....?
---আমি, বেলা....
---কে....? বেলা...দাঁড়াও গায়ে চিমটি কাটি আগে !
---শুনলাম তুমি ডাক্তারি পেয়েছ!
---ও তাই মনে পড়ল হঠাৎ লকডাউনে,তা তোমার মোটা মানিব্যাগের প্রেমিক কোথায় ?....?...
ট.. ট.. ট... কল ক্যান্সেলড !
বিঃ দ্রঃ লকডাউনে প্রাক্তনের ডাক আর নিশির ডাক বাস্তবে এক, পেছনে ঘুরে তাকালেই জীবন শেষ !-
এই শুন্য একাকী দুপরে অথবা
অমাবস্যার বৃষ্টি ভেজা কালো রাস্তা দেখে
রাতের আকাশে
মেঘ দল অনুধাবন করা যায় না
কোনো এক ঘর থেকে বাচ্চার কান্না শুনতে পাই,
এমন সময় মানুষ মা কে খোঁজে
মনে পড়লো সীমা দি' র কথা
সেও তো কারো মা।
ট্রেনে ট্রেনে খাবার ফেরি করতো ,
নিস্তব্ধ প্লাটফর্মে ধুলো জমে...
-
আশায় অমোঘ স্পর্শ জমাও,
বৈশাখে মাতবো আবার আলিঙ্গনে।
এখন মৌনতা ছুঁয়ে থাক,
চৈত্রের শহর, লক ডাউনে।-
বিচ্ছিন্ন যখন সামাজিক লোকালয়ে,
তিক্ততার বাসা বাঁধে মন, বন্দিদশায়;
তবু আমি চেয়ে থাকি পথ, একনিষ্ঠে
সময় ফিরবে আগের মতন, এই ভরসায়।।-
দুরারোগ্যে আতঙ্কিত আজ মনবাড়ি-
চলছে শুধু সারাবেলা, জীবন মৃত্যুর লড়াই;
ইচ্ছে ভীষণ যাই ফিরে, ওই মনকুঁড়ে-
ছিন্ন যোগ লকডাউনে, কেমনে সম্মুখে দাঁড়াই!-
নতুন শুরু-র আশায় ছিলাম
একটা দশক শেষে ,
হঠাৎ যেন আতঙ্ক-টা
ছড়িয়ে পড়লো দেশে ।
ভেবেছিলাম বিশে-বিশে
হবে বিষক্ষয় ,
‘করোনা’ এসে জানান দিলো
ভাবনা সঠিক নয় ।
হিংসা ,দাঙ্গা ,অরাজকতা
হঠাৎই সব বন্ধ ,
বাতাসে এসে মিশেছে যেন
মৃত্যু ভয়ের গন্ধ ।
পরিস্থিতি-র চাপে পড়ে
বলছে কলার টিউন ,
রাস্তা-ঘাটে বেরোবেন না
সাবধানে-তে থাকুন ।
ভাবছে সবাই কেমন করে
নিরাপদ থাকা যায় ,
‘লকডাউন’-ই ভরসা তাই
আর যে নেই উপায় ।
কবে শেষ হবে এই আতঙ্ক
ফিরবে প্রতিটি মুখে হাসি ,
উত্তরের আশায় ব্যাকুল আজ
সমগ্র বিশ্ব-বাসী ।।-