এখন বাড়িতে আছি
অবসাদের বিড়ি ফুঁকচি
ট্রেন লাইনে সারাদিন ঝিঝি ডাকে
আমি শুনি,
কলকাতা বহুদূরে,
আরো দূরে সরে গিয়েছে, যে দিন শুনলাম
কাজ খেয়েছে, করোনায়,
সংসারের চিন্তা চেপেছে মাথায় ষোলোআনাই।
এখন ট্রেন পথ দেখি, আমার মত অনেকেই দেখে,
নিজেদের অধিকার নিয়ে বাংলা মদ খাই...
কত চিন্তা মাথায় আসে,
ভাবি, কেমন আছে তারা,
যাদের আমার মতন আর কাজ নাই....?-
কথায় যারা বড়ো সাজে ,
তারা সর্বদাই ফাঁকি দেয় কাজে....
অল্প কথায় করি কাজ ,
কারণ আমি নই ফাঁকিবাজ....
-
দিন-রাত, ওরা কাজ করে
অক্লান্ত পরিশ্রম, ওদের ভয় করে...
দিন-রাত খেটে মরে, পেটের জ্বালায়!
স্বপ্ন বুনে, টাকা গুনে, পড়ে থাকে নালায়।
ওরা কাজ করে, মাঠে ঘাটে রাত-বিরাত-
শুনতে হয় কত কথা, পেতে হয় আঘাত!
তবু তারা থামেনা, দিন-রাত মরে-বাঁচে কত জ্বালা!
কেউ টানে ভেলা তো, কেউ টানে ঠেলা।-
।। কাজনামচা ।।
১.
চড়া পারফিউম, সস্তা কাপড়ে স্পষ্ট বুকের ভাঁজ
মহানগরীর স্যাঁতস্যাতে ঘরে বিবস্ত্র হয় "কাজ"
২.
পুড়ছে শহর, ঘড়িতে সময় দুপুর বারোটা পাঁচ
ঝলসানো হাতে, যানবাহনের গতি সামলায় "কাজ"
৩.
ভেঙেচুরে ঘর চলে গেছে প্রিয়, মন ভাল নেই আজ
মুখে রং মেখে, মঞ্চে তবুও বিনোদন দেয় "কাজ"
৪.
ফুলশয্যার খাটে খুলে রাখা আছে নতুন কনের সাজ
বাসর ভুলে, ওটির টেবিলে জীবন বাঁচায় "কাজ"
৫.
এক থেকে চার, সকলেই কেজো, বিভেদ গড়ে সমাজ
পেটে ভাত নেই, কে যোগান দেবে?
ছোট্ট শব্দ, "কাজ"-
সমস্ত কাজ গুছিয়ে নিয়ে
কোলের কাছে তোকে নিয়ে
পেন্সিলে হাত বুলিয়ে
পড়া পড়া খেলা চলে
প্রতি সন্ধ্যে জুড়ে।
-
কেন হল, তার চেয়ে যেটা হয়েছে, সেটা বেশি জরুরি ও বাস্তব।
কেন প্রশ্নটা ঈশ্বরকে না করে নিজেকে করলে উত্তর তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়।
-
তুমি যে কাজটি করতে পারোনা, সেই কাজটি করতে গিয়ে লোক হাসিও না, অকপটে স্বীকার করো যে তুমি ওই কাজটি করতে পারোনা,সত্যি কথা বলতে লজ্জার কিছু নেই।
-
বস্তিতে থাকে মেয়েটি..রোগা,ক্ষয়াটে চেহারা...দিন-রাত পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।উজ্জ্বল চোখদুটিতে অনেক স্বপ্ন।সে হতে চায় আই.পি.এস অফিসার আর তাই রাতে হ্যারিকেনের নিভু নিভু আলোটাও তার অদম্য ইচ্ছেশক্তির কাছে পরাজিত হয়।রুগ্ন মা পাঁচ বাড়ি ঠিকে ঝিয়ের কাজ করে মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করতে চায়।আছে কাজের বাড়ির লোকেদের পাশে থাকার আশ্বাস।মেয়েটি রোজ দেখে মা কোন ভোরে উঠে ঘরের সব কাজ সেরে নাকে-মুখে মুড়ি-চা খেয়ে ওই রুগ্ন শরীর নিয়ে রোজ দৌড়োচ্ছে।বাবার কথা তো তার মনেই পড়েনা।কোন ছোটোবেলায় মদ খেয়ে খেয়ে লিভার পচিয়ে মারা গিয়েছিল।মাঝরাতে যখন মায়ের কোলের কাছে ঘেঁসটে বসে..মা আশ্বাস দেয় মেয়েটিকে...কিডনি বিক্রি করে হলেও তাকে পড়াবে।ছোট্ট মেয়ে টার বুকে কোথাও বাজে কথাগুলো।আর তাই তার এই দিন-রাতের অক্লান্ত পরিশ্রম......না সে তার মায়ের অঙ্গ নিয়ে নয় নিজের যোগ্যতায় স্কলারশিপ পেয়ে পড়তে চায়।তাড়াতাড়ি বড় হতে চায়..মাকে দিতে চায় বিশ্রাম।এভাবেই পাঁকেও কিন্তু পদ্মফুল ফোটে। (সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
-
যে যেমন কাজে পারদর্শী তাকে সেই রকমই কাজ করা উচিত, চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অন্যের দেখাদেখি পারদর্শিতা ছাড়া কাজ করতে গেলে মানিসিক, শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
-