জেতার জন্য লড়াই করেও
যে জিততে পারেনি,
পরিশ্রম তার কম ছিল না,
সে খবর কেউ রাখেনি ।-
সব আহ্লাদ, আশা, ইচ্ছে, শখ বিসর্জন দিয়ে
পথহারা পথিকের মতো দায়িত্বের ঝোলা কাঁধে নিয়ে
হাঁটতে হাঁটতে এতটাই ক্লান্ত যে,
বটগাছের মতো তোমার শীতল ছায়াও গিয়েছি এড়িয়ে।
চোখে পড়েনি তোমার মেঘ হয়ে সূর্যকে আড়াল করা,
অনুভব করিনি তোমার বাতাস হয়ে আমাকে স্পর্শ করা ,
শুধু যেতে যেতে দায়িত্ব কুড়িয়ে ভরেছি ব্যাগ -এ
বুঝিনি তা তুমিই সেই ঝোলা ,যাতে আমার এত দায়িত্ব ভরা ।।-
কেমনে করিব একমুঠো সাহস বন্দী,
কেমনে দাঁড়াইব তাহার সন্মুখে তুলিয়া বদন,
জানিয়া-বুঝিয়া অথবা অজান্তেই
ভাঙিয়াছি আমি যার নিষ্পাপ মন ।।-
*ফিরিয়ে দাও*
আমার খোয়া গেছে স্বপ্নগুলো , কেউ কি দেখেছো তাকে ?
নদীর চড়ায়, বকুলতলায় কিংবা পথের বাঁকে !
দাও ফিরিয়ে সেই স্বপ্নগুলো আমার কাছে এনে,
কঠিন ব্যথায় ঝরছে ধারা, পেরেক গেঁথেছে মনে ।
আমার তন্দ্রাহীন রাত্রির ঘুম কে করেছ চুরি?
আড়ালে থেকে মুচকি হেসে করছো বাহাদুরি !
ফিরিয়ে দাও সে ঘুম আমার ক্লান্ত চোখের পাতায়,
মা-গো তোমার কোলে শরীরটাকে এলিয়ে দিয়ে
স্বপ্ন জগতে পাড়ি জমাতে চাই ।
আমার আকাশ সমান ভালোবাসা যার মায়াতে ছিল,
খাঁচার শিকল ভেঙে তারে মুক্ত করে দিও,
ছেলেবেলার কাছে গিয়ে বলবো -
তোমার শৈশবের ডানায় আমাকে আবার উড়িয়ে নিও ।।-
আমি আগুন হয়ে তোমায়,
জ্বালিয়ে দেব এমন-
অস্তিত্ব ততটুকুই আমার
তুমি পুড়বে যতক্ষণ ।|-
সবাই সবটা গেছে জেনে ।
রামসেনারা দোর গোড়াতে ; তবে,
দশানন্ এবার করবে টা কি ?
শুনলুম নাকি রাবণ খোদ ফুঁকেছে শিঙা-
সীতা হরণের প্রতিবাদে ।
রাজ্যজুড়ে তাই নিয়ে যে, চলছে ভীষণ কানাকানি ।
চুরি করে চোর সজোড় গলায়,
মূর্খের সৈনিকের সভাতলায়
বলছে তাহার শাস্তি চাই,
যে করেছে নারীর সম্মানহানি ।
তা-ও আবার আমার রাজ্যে !
মশাই !
জীভ তো এবার ক্ষয়ে যাবে,আর কত চাটবেন?
তার চেয়ে আসুন না-
মনুষ্যত্বের গঙ্গা জলে, একটু গা ভিজিয়ে নিলে
অন্তত দিনশেষে,
ঘরের সীতা সম্মুখে এলে
মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে তো পারবেন ।।-
আমি তোমার হয়েও, তোমার হতে পারিনি
ভালোবাসার কলি নিয়ে বকুলতলায় দাঁড়িয়ে
তোমার প্রত্যুত্তরের আশায় ছিলাম ।
তুমি এলে, কিছুই বললে না,
শুধু দুহাত ভরে আনা কিছু বকুল ফুল আমাকে দিয়ে গেলে ।
আমি ঠাই দাঁড়িয়ে রইলাম তোমার পানে,
হঠাৎ যেন লু প্রবাহিত হল সারা দেহ জুড়ে ।
ইচ্ছে করছিল তোমার নরম ঠোঁটে আমার ওষ্ঠের উষ্ণতা দিয়ে ভরে ।
মহুয়ার এক মাতাল করা নেশা সারা রাত্রি নিদ্রাহীন চোখে ভর করলো ।
মানিব্যাগে লুকিয়ে রাখা আমার ছবির পাশে তোমার ছবিটা দেখছিলাম ।
দিন কতক পরে, তোমার বিয়ের চিঠি আমার ঘরে,
এবার হঠাৎ যেন সারা দেহ অসার হয়ে এলো আমার,
সেদিন তোমার হাতে থাকা বকুল ফুল থেকে চোখ সরিয়ে
যদি একবার তোমার চোখে চোখ রাখতাম-
তাহলে আজকে তোমার মত আমিও তোমার চোখের কোনে অশ্রু বিন্দু দেখতে পেতাম ।
মন কাঁদছে - চোখ বাঁধা মানছে না - কান অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে
তোমার মুখে কিছু শোনার জন্য ।
অবশেষে তুমি বললে,
"প্রিয়, বড্ড দেরি করে ফেললে ।
সময় তোমাকে আমার হয়েও আমার হতে দিলো না ।"-
বাঁধিনি হৃদয়ের প্রয়োজনে, অকারণে
তোমায়; পিঞ্জর হইতে মুক্ত করিয়া
দু হাত তুলিয়া ঊর্ধ্বগগনে
বর্ষনের আশে পিপাসার্ত চাতকের সনে
আমিও অষ্টপ্রহর অপেক্ষায় ছিলেম তোমার ।
তুমি কালবৈশাখী সম প্রেম নিয়ে এসে
শীতল হস্তে উষ্ণ বক্ষে জড়িয়ে নিমেষে,
কি জানি কোন জাদুতে স্বয়ং চলিলাম ভেসে
ছিন্ন করে সমাজের কাঁটাতার ।।-