শব্দহীন
রূপালী রায়
অজুহাতে হলেও একটিবার যদি
তোমাকে ছোঁয়া যেত,
তোমার ঐ মায়াবী চোখের মায়ায়
হারানো যেত
না হয় তোমাকে না দেখার দুঃখে
একটু প্রাণ খোলে কান্না করা যেত।
বেশি সময় চাইবো না ক্ষণিকের জন্য ।
এই অল্পক্ষাণিক সময়
তোমার কাছে ধার চাইলাম
অতি কাতর জেনে না হয়
একটু সময় ধার দিও।-
সময়টা প্রচন্ড বেগে
খুঁজে নেয় গন্তব্য।
দিন-রাত একে একে মিশে যায়
গভীর বিদিশার সাথে।
উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের মতো
সুখ আসে, দুঃখ আসে
আবার মিলিয়ে যায়
মহা সমুদ্রের অতলে।-
আমার অবশিষ্ট জীবন
রূপালী রায়
এক যুগ পর
তোমার সাথে আমার আবার দেখা হবে
আমি আবার তোমার প্রেমে পড়বো,
তোমার চোখের নীরবতার মায়ায় পড়বো,
তোমার উসক উসক চুলের প্রেমে পড়বো ,
তোমার কথার শৈল্পিকতার প্রেমে পড়বো ।
তোমার কৃত্রিম হাসি
আমাকে আবারও কাঁদাবে ;
আমি কাঁদবো,
প্রাণ ভরে কাঁদবো
তবু নির্ঘাত আমি আবার তোমার প্রেমে পড়বো।-
মৌমিতা ধর্ষণ
রূপালী রায়
চারিদিকে কিছু অসুরের দল
মানুষের মুখোশ পড়া
যেন মানুষ অবিকল।
মানুষের ভিড়ে এরা নর পিশাচের দল
নারী দেহ ছিঁড়ে খাওয়ার
সবেতে খুঁজে কৌশল।
হাজারো মৌমিতাকে প্রতিনিয়ত
করছে এরা গ্রাস ,
স্বাধীন হয়েও মেয়েদেরকে আজও
নিতে হয় পরাধীনতার নিঃশ্বাস।
সুরক্ষিত নয় মেয়েরা এখনও
সমাজের বুকে ,
মেয়েরা এখনও মানুষ হয়ে উঠেনি
পুরুষতন্ত্রের চোখে।
এখনও মেয়েরা ভোগের সামগ্রী
ঘুমরে ঘুমরে কাঁদে ।
প্রতি সেকেন্ডে হাজার মেয়েরা
ধর্ষিতা হচ্ছে বিনা প্রতিবাদে।-
সাম্যবাদের কবি, মানববাদের কবি নজরুল
শত প্রত্যাহবানে যায়নি যার কলম থেমে
কবি নিরলস সৃষ্টি করেছেন
প্রতিবাদের সুর।
লড়েছেন সাম্যবাদের লড়াই।
দারিদ্র্য তাড়িয়েছে আজীবন কাল
তবুও থামেনি যার
বিদ্রোহের পাল।
গানে কবিতায় কবি বলে গেছেন
সাধারণ মানুষের কথা,
নিপীড়িত মানুষের হয়ে
দাঁড়িয়েছেন কলমের অস্ত্র হাতে।
কবি লিখেছেন
"গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!"-
রক্ত ঝড়ানো সেই দিনের কথা
ভুলার নয় সেই অমর গাঁথা
ভুলার নয় শহীদ বীর- বীরঙ্গনার
অমর বলিদান।
মাতৃভাষার জন্য যাঁরা
প্রাণ করেছেন কুরবান,
মায়ের সম্মান রক্ষার্থে
এগিয়ে এসেছেন
লড়েছেন আপ্রাণ।
হে অমর শহীদ
তোমাদের জানাই প্রণাম।
রক্তে রাঙা মাতৃভাষা
তোমায় প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসি
শুধু উনিশে মে নয়
প্রতিটি ক্ষণেই তোমার স্নেহের আঁচলখানি
জড়িয়ে ধরে বাঁচি।
তুমি মিশে আছো প্রাণে মনে
আছো শিরায় শিরায় ,
তুমি আমাদের প্রাণের ভাষা
প্রতিটি রক্তক্ষণায়।-
তুমি জীবনে কাউকে ভীষণ ভাবে
ভালোবেসেছো
তারপর নির্মম ভাবে প্রতারিত হয়ে
সেখান থেকে ফিরে এসেছো
তার পরও যে তোমাকে ভীষণ ভাবে
আগলে রাখতে চায়
সে তোমার দ্বিতীয় প্রেম
আর তুমি তার জন্য নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে করতে পারো ।-
ভুল কিনা শুদ্ধ তা আমি আজও আবিষ্কার করতে পারি নি ।
পরিকল্পনাটা হয়তো পুরোটাই আমার ছিল
কিন্তু তবুও আজ যেন কিছুতেই অস্বীকার করতে পারি না
তোমাকে আমার খুব প্রয়োজন ছিল ।-
কাঁপিয়া উঠেছিল মাটি
হুনকার শুনি
জননীর সম্মানে দিতে হবে প্রাণ
শুধু এইটুকু জানি ।
আজ নয় ভালোবাসার দিন ,
আজ নয় প্রেমিকের তরে
চিঠি লেনাদেনা
আজ শুধু বেজে উঠুক
স্বাধীনতার জয়ধ্বনি ।
চিৎকার করে বলে উঠুক শিশু
এ আমার দেশ আমার জননী ।
আর নয় পরাধীনতার অন্ধকার
দোয়ার খুলে বেরিয়ে এসো
আজ নয় ভালোবাসার দিন
পূর্ণিমার চাঁদের মতো জ্বলসে উঠুক
জননী চাঁদপানা মুখ
বেজে উঠুক স্বাধীনতার জয়ধ্বনি ।
কত রক্তের প্রতিদানে
কত জীবনের বলিদানে
কত জননীর বুক শূন্য করে
বক্ষে ধরেছি তোমায় স্বাধীনতা ।-
পরিকল্পনাটা হয়তো পুরোটাই আমার ছিল
কিন্তু তবুও আজ যেন কিছুতেই অস্বীকার করতে পারি না
তোমাকে আমার খুব প্রয়োজন ছিল ।-